বস্তা + পুরাতন বস্ত্র বিতরণ

সেই সব হতদরিদ্র, নিঃস্ব, ভবঘুরে মানুষরা যারা এই প্রচন্ড শীতে যথেষ্ট বস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে, তাদের কিছু জনের তাৎক্ষণিক কষ্ট কিছু টা নিরাময়ের উদ্দেশ্যে সময়ে দিশারী পুরনো বস্ত্র ও চট এর বস্তা বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছে। (সাধ্য মতো)

9 January 2018 [Day-1] : বনগাঁ থেকে গুমা প্ল্যাটফর্ম চত্বর। ১২ জন কে দেওয়া গেলো।

10 January 2018 [Day-2] : অশোকনগর থেকে বারাসাত প্লাটফর্ম চত্বর। গুমা হাট ও রেল লাইনের পাশের এলাকা।
5 জন কে পেলাম। গুমা হাট ও রেল লাইনের পাশের এলাকায় কয়েকটি দৈন্যপীড়িত পরিবারের কাছে যাওয়া ও সহায়তা করা হবে বলে জানানো।

11 January 2018 [Day-3] : গুমা শান্তিনগর - নবপল্লি অঞ্চল। আজ প্রথমত আমরা কিছু এলাকা পরিদর্শন করলাম।
দেখলাম আদিবাসী এলাকার পরিবারদের, বস্তি এলাকার পরিবারদের এবং কিছু পরিবার যাদের গৃহ আছে কিন্তু দারিদ্রপীড়িত হওয়ার কারণে শীতে কষ্ট পাচ্ছে।
এই তিন গোত্রীয় পরিবারদের চিহ্নিত করা গেলো। এদের মধ্যে যেসব পরিবার তাদের সন্তানদের শিক্ষার দিকে এগিয়ে দিচ্ছে তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে খোঁজার চেষ্টা হয়েছে।
সেরকম 3টি পরিবারকে চিহ্নিত করে বস্ত্র প্রদান করা হল।

12 January 2018 [Day-4] : আজ মূলত 'মূল জনজাতি'র পরিবার গুলোর মধ্যে যাওয়া ও চিহ্নিত করা...
যেসব পরিবার তাদের সন্তানদের পড়াশোনা করাচ্ছে, তাদেরকে উৎসাহিত করা...
9টি পরিবারের মধ্যে + 1জন মানষিক ভারসাম্যহীন ব্যাক্তিকে বস্ত্র বিতরণ করা হলো।
আজ গুমা ও বিড়া অঞ্চলের মধ্যে কাজ করা হলো।

14 January 2018 [Day-5]
আজ সমাজের মূল স্রোতের বাইরে থাকা একটি পরিবারের শিশুদের বস্ত্র বিতরন করা হলো।

16 January 2018 [Day-6]
আজ হৃদয়পুর, মধ্যমগ্রাম, বিরাটি প্লাটফর্ম চত্বরে 4 জন দুঃস্থ ও মানষিক ভারসাম্যহীন ব্যাক্তিকে চিহ্নিত করে বস্ত্র বিতরণ করা হলো।

Advertisements

ইলিশ এর এই ভরা মরশুমে যখন বাজারের এমন অবস্থা যে storage-এর অভাবে মাছ ফেলে দিতে হচ্ছে। তদসত্ত্বেও আমাদের চারপাশে এমন কিছু মানুষ আছে যাদের মুখে ইলিশের স্বাদ পৌঁছয় না বা তাদের মুখে এ স্বাদ পৌঁছে দেওয়ার মতো কেউ থাকে না। এমন কিছু ছিন্নমূল ও মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত মানুষের মুখে ইলিসের স্বাদটুকু পৌঁছে দেওয়ার এই প্রয়াস। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করলাম। অঞ্চল- হাবরা থেকে শিয়ালদহ প্লাটফর্ম এলাকা (বিধাননগর ছাড়া)।

শাহবাগ আন্দোলনকে সম্মান জানিয়ে

আপনি কি হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, গণধর্ষণ করে হত্যা, ভিন্ন ধর্মাবলম্বিদের (সংখ্যালঘু) হত্যা, ধর্ষণ ও দেশ থেকে বিতাড়ন ধন-সম্পদ লুঠন, জোর করে ধর্মান্তরিতকরণ প্রভৃতি নৃশংসতার পক্ষে? যদি পক্ষে থাকেন তাহলে আনন্দের সাথে – রাজাকার, আলবদর, আলশামস প্রভৃতি নরখাদকদের পাশে দাঁড়াতে পারেন। তাদের রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য সংগঠনে যুক্ত হতে পারেন বা তাদের পক্ষে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন রং নিয়ে দাঁড়াতে পারেন। আর যদি তা না পারেন, যদি প্রকৃত ভাবেই আপনি ন্যায় বিচারের নুন্যতম পক্ষপাতিও হন তাহলে শাহবাগ আন্দোলনের পাশে তাদের দাবির সমর্থনে আপনি সামিল হতে পারেন। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষাধিক মানুষকে হত্যা, ৩-৫ লক্ষ নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং হাজার হাজার ভারতীয় সৈন্যের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের বাংলাদেশী সহযোগিরা (রাজাকার, আলবদর, আলশামস প্রভৃতি) এক ভয়ঙ্কর ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। আজ ওই ভয়াল রক্ত পিপাসুদের মধ্য থেকে সামান্য (সংখ্যক) কয়েকজনকে বিচারের আওতায় এনে এতদিন আপনার-আমার অক্ষম থাকার পাপ থেকে বেরোনোর একটুখানি সুযোগ দিয়েছে – ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, ১৯৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইবুনাল, শাহবাগ আন্দোলন ও তার দাবি-দাওয়া। আর একটি কথা আপনাকে মাথায় রাখতে হবে এই উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠী আপনার-আমার নিস্ক্রিয়তায় কালে কালে শক্তিশালী হয়েছে এবং ক্রমাগত সংখ্যালঘু নিধন, নির্যাতন এবং ধর্মনিরপেক্ষ-মানবতাবাদী-গণতন্ত্রপন্থী-সাম্যবাদী মানুষ-জনকে, শিশু ও নারী সমাজকে নির্যাতন করে চলছে।

এবার আপনার-আমার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার সময় – আমরা শাহবাগ আন্দোলনের সমর্থনে তাদের পাশে দাড়াবো, না তাদের থেকে দুরে দাড়িয়ে থেকে ক্রমাগত নিস্ক্রিয়-অপদার্থতার পাপ বাড়িয়ে যাবো। এই আন্দোলনের পাশে দাড়ানোর সুযোগ গ্রহণ করে আপনি চিনতে পারেন ও চেনাতে পারেন নিজেকে।

ধর্মনিরপেক্ষতাকে সম্মান করলে, ভারতের সংবিধানকে স্বীকার করলে ও মর্যাদা প্রদান করলে আমাদের দেশের সব মানুষের উচিত ধর্মান্ধ যেকোনো মৌলবাদী শক্তির বিরোধিতা করা। ধর্মীয় ভাবাবেগ নিয়ে একচেটিয়া ব্যবসা ও মানবিক ধর্মের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সমবেত হওয়া দরকার ও তাদের বিরোধিতা করা দরকার। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখছি কলকাতার বুকে ভারতের দ্বিতীয় সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে উদ্ভূত বেশ কয়েকটি সংগঠন ২৬-০৩-২০১৩ তারিখে – ১৯৭১ সনের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অপরাধী (খুন, ধর্ষণ, লুন্ঠন, জোর করে ধর্মান্তরিতকরণ প্রভৃতি) রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাইদী’র বিচারের বিরুদ্ধে সমবেত হওয়ার ডাক দিয়েছে। তারা ধর্মনিরপেক্ষ, গণতন্ত্রপন্থী, প্রজন্ম শাহবাগের বিরোধিতা করতে শক্তি প্রদর্শন করতে চেয়েছে। এর পাশাপাশি এরা ভারতে তথা বাংলায় শাহবাগ আন্দোলনের পাশে নৈতিক সমর্থনে থাকা মানুষদেরও একটি বার্তা পৌছে দিতে চায় – ভারত বিরোধী, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু বিরোধী, ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিবিরোধী, গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ বিরোধী, পাকিস্তানপন্থী, গোঁড়া মৌলবাদী ইসলামপন্থী – জামায়াতে ইসলামীর নেতা রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাইদী ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের অজস্র অনুগামী পশ্চিমবাংলায় তথা ভারতে তৈরী রয়েছে।

এবার স্বাভাবিক ভাবেই একটি প্রশ্ন আসে যে ভারত থেকে সব ধরনের সুবিধা লাভ করে, ভারতে বসবাস করে – প্রত্যক্ষ ভারত বিরোধী, ১৯৭১-এ ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে প্রত্যক্ষ পাকিস্তানপন্থী, ভারত স্বীকৃত স্বাধীন বাংলাদেশ বিরোধী, সংখ্যালঘু হত্যা ও বিতাড়নকারী, অকাতরে বাঙালি হত্যা, নারী-শিশু ধর্ষণ, লুন্ঠনকারী, সারা জীবন ধর্মনিরপেক্ষ-গণতান্ত্রিক-সমাজতান্ত্রিক-সাম্যবাদী শক্তির প্রতি আক্রমনকারী – রাজাকার দেলোয়ার হোসেন সাইদী তথা তাদের দলবলের প্রতি সক্রিয় সমর্থন করার সঙ্গে ভারত বিরোধিতা, ভারতের সংবিধান বিরোধিতা, ভারতের নাগরিক কর্তব্য অবহেলা করার বিশেষ ফারাক আছে কি?

ভারত মাতার কোন সন্তান যদি কোথাও থাকেন – এই ‘তোষণ ও ঘুমপড়ানির দেশে’, তাহলে তারা ভাববেন, তোষণের বেড়ি ছিঁড়বেন, ঘুমভাঙ্গার গান গাইবেন।

এই কামনায়-
‘সময়ে দিশারী’
যোগাযোগ: ৯১২৬৭২৭১৭০ / ৮৬০৯৭৬১৬০০ / ৮৩৪৫০৪৩০১৩

E-mail: samayedishari1996@gmail.com

Facebook:www.facebook.com/samayedishari